বঞ্চিত বাঙালির মুখে এখন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির হাসি

0
0

বাংলারজয় প্রতিবেদক :

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পাওয়া অন্যতম বিষয়। তাই দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ প্রতি বছরই বাড়ছে। স্বাধীনতার আগে যে বাঙালি জাতির দিন গেছে বঞ্চনা-লাঞ্ছনায়, সে বাঙালির মুখে এখন হাসি ফোটাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশের প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ছিল সরকারি কর্মচারীদের জন্য পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা। এখন সেখানে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মোট ১২৬টি কার্যক্রম ২৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ বাস্তবায়ন করছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে।

যতদিন দেশে অসহায়, দুস্থ মানুষ থাকবে ততদিন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়তে থাকবে’

চলতি অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশের পাঁচ কোটির বেশি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির সুবিধাভোগী।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের কাজ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি। ২০১৫ সালে ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ প্রণয়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বাংলাদেশে বাস্তবায়িত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক জীবনচক্র পদ্ধতির ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। মূল শ্রেণিভিত্তিক কর্মসূচিগুলো হলো- শিশুদের জন্য কর্মসূচি, কর্ম উপযোগী নাগরিকদের জন্য কর্মসূচি, বয়স্কদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র ও বিশেষ কর্মসূচি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০০০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯, যা ২০০৫ সালে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। ২০১০ সালে তা আরও নেমে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ২০১৫ সালের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা।

নানা উদ্যোগের করণে দারিদ্র্য দূরীকরণে অনেক অগ্রগতি হলেও জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশ নানাবিধ কারণে এখনও দারিদ্র্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘দারিদ্র্য ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য নেয়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। কিন্তু তথ্যপ্রমাণ থেকে এটাও দেখা যায় যে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এখনো এসব কর্মসূচির আওতায় আসেনি।’

সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি বিতরণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি মাঝে মাঝেই সামনে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে কৌশল অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিদ্যমান কয়েকটি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কতিপয় কার্যক্রম নতুনভাবে প্রবর্তন, কয়টি কার্যক্রম আগের মতো অব্যাহত রাখা, ক্ষুদ্র কর্মসূচিগুলোর বৃহৎ কর্মসূচির অধীনে সমন্বিতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মো. সামসুল আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং প্রতি বছর বাজেটের একটি বড় অংশ এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি অর্থবছর এই কর্মসূচিতে ৯৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো সোনার বাংলা গড়ে তোলা। যেখানে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না। জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ার দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপের অংশই হলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।’

‘যতদিন দেশে অসহায়, দুস্থ মানুষ থাকবে ততদিন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়তে থাকবে’—যোগ করেন সামসুল আরেফিন।

jagonews24

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশের প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ছিল সরকারি কর্মচারীদের জন্য পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা। এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করতো প্রভিডেন্ট ফান্ড, যা ছিল সরকারি ও আনুষ্ঠানিক কর্মচারীদের জন্য সঞ্চয়ের একটি বাহন। এর মাধ্যমে কর্মচারী চাকরিজীবীরা অবসরে যাওয়ার সময় একটি এককালীন ভাতা পেতেন। ১৯৭৪ সালের খাদ্য সঙ্কট ও আশির দশকে সংঘটিত উপর্যুপরি বন্যা এবং এ ধরনের অন্যান্য সঙ্কটের প্রভাব মোকাবিলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নতুন কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচি ছিল মূলত বিদেশি সহায়তাপুষ্ট গণপূর্ত কর্মকাণ্ড ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি।

আশির দশকের শেষ দিকে সরকার এমন সব কর্মসূচি গ্রহণ করে যেগুলো জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করে। বিদ্যালয়ে ছাত্র উপবৃত্তি কর্মসূচি এ ধরনের একটি কার্যক্রম। নব্বই দশকের শেষ দিকে সরকার বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতার মতো জনপ্রিয় কর্মসূচিতে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করে। এছাড়া দাতাগোষ্ঠী ও বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করে।

এসব কর্মসূচির মধ্যে সমাজসেবামূলক কাজ ছাড়াও সামাজিক অনুদানমূলক কাজও ছিল। ক্রমান্বয়ে খাদ্যসহায়তার পরিবর্তে নগদ অর্থ সহায়তার হার বৃদ্ধি পায়। নগদ টাকা মূলত জীবনচক্রভিত্তিক কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে দেয়া হতো।

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের মাঝামাঝি সময়ে বেশিরভাগ বিদেশি খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এর পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে (কর রাজস্ব থেকে) খাদ্যশস্য দেয়া শুরু হয়। এনজিও ও সরকার গৃহীত ছোট আকারের প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়; এসব প্রকল্পে কিছু সামাজিক নিরাপত্তামূলক উপাদান থাকতো।

এসব উদ্যোগের ফলে কয়েক দশকে সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির তালিকা দীর্ঘায়িত হয়েছে, যা দারিদ্র্যের তীব্রতা প্রশমনের পাশাপাশি দুর্যোগ পরিস্থিতি উত্তরণের সক্ষমতা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

jagonews24

বরাদ্দ বাড়ছে, বাড়ছে আওতা
চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ০১ শতাংশ। ১৯৯৮ সালের জিডিপির অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মোট ৮১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, যা ছিল বাজেটের ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, জিডিপির ২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৮ হাজার ৫২৪ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৮৫৭ কোটি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৯৭৫ কোটি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৬৩৬ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৬৫৪ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৯৭ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ২১ হাজার ৯৭৬ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২০ হাজার ৮৯৩ কোটি, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৭০৫ কোটি, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছর প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ৪৯ লাখ লোককে বয়স্ক ভাতা দেয়া হচ্ছে। এর আগের বছর ৪৪ লাখ লোক এই সুবিধা পেত। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার, তখন প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে ভাতা দেয়া হতো।

jagonews24

এবার ২০ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা পাচ্ছেন, এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে এই ভাতা দেয়া হচ্ছে। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর ২ লাখ ৮ হাজার নারী প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে এই ভাতা পেতেন।

চলতি অর্থবছর প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা হারে ১৮ লাখ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ২০০৫-০৬ অর্থবছর মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার জন এই ভাতা পেতেন, তখন প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে ভাতা দেয়া হতো।

প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাচ্ছেন ৭ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৪৫ হাজার মা এই ভাতা পেতেন, ভাতার হার ছিল ৩০০ টাকা।

কর্মজীবী ও ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা পাচ্ছেন ২ লাখ ৭৫ হাজার নারী। এক্ষেত্রেও প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে দেয়া হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে মাসে ৩৫০ টাকা হারে ভাতাভোগীর সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার।

বর্তমানে ২ লাখ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা হারে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। ২০০১-০২ অর্থবছরে ৪২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা মাসে ৩০০ টাকা হারে ভাতা পেতেন।

jagonews24

‘হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য ভাতা’ কর্মসূচিটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কতিপয় অপরিহার্য পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়, হিজড়া এবং দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসতে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ হিল ৪৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। চলতি অর্থবছর ভাতাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৮৬ লাখ করা হয়েছে। এছাড়া এসব সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের সরকার উপবৃত্তি দিচ্ছে। বর্তমানে জনপ্রতি প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা করে মাসিক উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ২৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, যা বর্তমান অর্থবছরে অপরিবর্তিত আছে।

নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার খোলাবাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচি চালু করে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ভর্তুকির মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে খাদ্যসামগ্রী (চাল ও আটা) বিক্রি করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ৮৭৬ কোটি ২৩ লাখ এবং বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯৭২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এছাড়া সরকার বছরে পাঁচ মাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে হতদরিদ্র ৫০ লাখ মানুষকে চাল দিয়ে থাকে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ নারীদের জন্য ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা, দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী, পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সম্মানী ভাতা, সরকারি শিশুপরিবার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহে নিবাসীদের খোরাকি ভাতা, বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন মঞ্জুরি, বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী (পরিধেয় বস্ত্র, কম্বল, বিস্কুট, ঢেউটিন ইত্যাদি), দুর্যোগ অনুদান (থোক), অবাঙালি পুনর্বাসন, দুস্থ সংস্কৃতিসেবীদের জন্য ভাতা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর ও পারিবারিক অবসর ভাতা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রেশন, সামাজিক ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্কুলের জন্য মঞ্জুরি, নগদ প্রদান (বিশেষ) কার্যক্রমসমূহ : সামাজিক ক্ষমতায়ন, গৃহনির্মাণ সহায়তা, কৃষি পুনর্বাসন, খাদ্যনিরাপত্তা কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা, ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিআর (খাদ্য), জিআর (খাদ্য), খাদ্যসহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি : সামাজিক ক্ষমতায়ন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ, পিকেএসএফ’র ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র কৃষক ও পোল্ট্রি খামারিদের সহায়তা তহবিল, স্বনির্ভর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে আরও আছে- বিভিন্ন তহবিল ও কার্যক্রম : সামাজিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তহবিল, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং নারীদের শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, ন্যাশনাল সার্ভিস, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান, পেনশন স্কিম, দলিত হরিজন ও বেদে এবং হিজরা সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, প্রাথমিক ছাত্র-ছাত্রী বৃত্তি, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম ও দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম, শহরের কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানসহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here