কার্জন হলের আদলে দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি আঁকলেন মুনতাসীর

0
3

নাহিদ হাসান:
স্থাপত্য শিপ্লের অনন্য এক শৈল্পিক নিদর্শন কার্জন হলের মতো দেখলেও এটি সুরা ইয়াসিন-এর প্রতিচ্ছবি। দৃষ্টিনন্দন এ ক্যালিগ্রাফি করেছেন ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তরুণ ক্যালিগ্রাফার মুনতাসীর হক মুন।

সুরা ইয়াসিনের দৃষ্টিনন্দন এ ক্যালিগ্রাফিটি দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল পরিচিত কার্জন হলের মতো। প্রথম দেখাতেই যে কেউ এটিকে মনে করবে ঢাকার কার্জন হল। শিল্পী মুনতাসীর হক কার্জন হলের আদলেই সুরা ইয়াসিনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসীর হক মুন ৮৩ আয়াত সমৃদ্ধ পুরো সুরাটিসহ আল্লাহর গুণবাচক ২০-২২টি নাম দিয়ে এ ক্যালিগ্রাফিটি সাজিয়েছেন।

jagonews24

শুধু কার্জন হলের আদলেই নয়, বরং মুনতাসীর হক আরবি অনেক শব্দ ব্যবহার করে এঁকেছেন নান্দনিক সব ক্যালিগ্রাফি। কার্জন হলের মূল যে ভবনটি আমরা দেখতে পাই হুবহু সেটির আদলেই করেছেন কার্জন হলের ক্যালিগ্রাফিটি।

বাংলাদেশে রয়েছে চোখ জুড়ানো ঐতিহাসিক সব স্থাপনা। যেগুলোর সুন্দর স্থাপত্যশৈলী আর দৃষ্টিকাড়া দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায় সবারই। তেমন স্থাপনা নিয়েই কাজ করেছেন বয়সে তরুন এই ক্যালিগ্রাফার। প্রথমে পুরাতন নান্দনিক ও ইতিহাস বহনকারী ভবনগুলোর মধ্যে কার্জন হল ও তাঁরা মসজিদের ক্যালিগ্রাফি করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন।

jagonews24

সময় স্বল্পতা ও আনুষঙ্গিক উপাদান না থাকায় তাঁরা মসজিদের উপর আর কাজ করা না হলেও কার্জন হলের ক্যালিগ্রাফি এঁকে আর্ট জগতে এরইমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন তরুণ এই ক্যালিগ্রাফার।

ক্যালিগ্রাফির উপর তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও আরবি হরফে নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কার্জন হলের চিত্র।

সাঁড়া জাগনো এই ক্যালিগ্রাফি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুনতাসীর হক মুন বলেন, স্ট্রাকচারাল ক্যালিগ্রাফির উপর মূলত কাজ শুরু করি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোটখাটো বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ভবন, নান্দনিক ডিজাইন এবং প্রাচীন নানা জিনিস।

প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি ভবন হচ্ছে এই কার্জন হল তাই এটা নিয়ে আমার কাজ করা। আমি যেহেতু কুরআনের হাফেজ; তাই কুরআন নিয়েই কাজটি করি। এতে পুরো সুরা ইয়াসিন ও আল্লাহর ২০-২২টি গুণবাচক নাম দিয়ে আঁকি।

কার্জন হল নিয়ে যখন আমি কাজ শুরু করি তখন দৈনিক প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। এভাবে কাজটি শেষ করতে প্রায় ১৪-১৫ দিন সময় লেগেছে।
এই ক্যালিগ্রাফিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ টি এক্সিবিশনে অংশ নিয়েছি যার মধ্যে তিনটি এক্সিবিশনই ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ও বাকিটি ধানমন্ডিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

jagonews24

২০১৭ সালের অক্টোবরের দিকে ক্যালিগ্রাফি জগতে কীভাবে হাতেখড়ি তা উল্লেখ করে তরুণ এই ক্যালিগ্রাফার বলেন, বিভিন্ন সময়ে পত্রিকা বা নানা জায়গায় প্রকাশিত ক্যালিগ্রাফিগুলো দেখতে ভালো লাগতো এবং আলাদা একটি টান কাজ করতো। সেই ভালোলাগা ও শখ থেকে ক্যালিগ্রাফি নিয়ে কাজ শুরু করি।

প্রথমদিকে পেন্সিল দিয়ে নিজের নাম বা কুরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতাম এবং সেখান থেকে ভালো উৎসাহ, অনুপ্রেরণা পেতাম। পরে আস্তে আস্তে এই আর্টের উপর সময় বাড়িয়ে দিই এবং নিজ উদ্যোগেই কাজ শিখতে থাকি।

প্রতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা ছাড়াই তাক লাগালো সব ক্যালিগ্রাফি করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন তরুণ এই ক্যালিগ্রাফার মুনতাসীর হক মুন৷

মুনতাসীর হক মুনরে ইচ্ছা, ক্যালিগ্রাফির উপরে প্রতিষ্ঠানিক কোর্স বা প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও ভাল করতে চান। তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন ক্যালিগ্রাফি দিয়ে বিদেশের মানুষর কাছে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবো। একদিন বিশ্ব দরবারে স্থান করে নেবে বাংলাদেশের ক্যালিগ্রাফি৷

jagonews24

ইতিমধ্যে মুনতাসীর হক মুন কার্জন হল ছাড়াও আরবি হরফের ক্যালিগ্রাফি দিয়ে এঁকেছেন বাংলাদেশের পতাকা৷ এছাড়াও জাতীয় সংসদ ভবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মসজিদসহ ঐতিহাসিক সব স্থাপনা নিয়ে ক্যালিগ্রাফি করার চিন্তা রয়েছে তরুণ এই ক্যালিগ্রাফারের৷ মূল চিন্তাধারা আরবি ক্যালিগ্রাফি হলেও মাঝে মধ্যে বাংলা ও ইংরেজী ক্যালিগ্রাফি নিয়েও কাজ করেন বলেও জানান মুনতাসীর।

একেবারে শখের বসে শুরু করা ক্যালিগ্রাফি এখন সম্পূর্ন পেশা হিসেবেই নিয়েছেন এই শিক্ষার্থী৷ ধরেছেন সংসাসের হাল৷ তার আঁকা ক্যালিগ্রাফি সর্বনিম্ন আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। যান্ত্রিক এই যুগে নিপুন হাতের ছোঁয়াতে মুনতাসীর মুনের এই ক্যালিগ্রাফি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একদিন তুলে ধরবে এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদেরও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here