করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার বিকল্প নেই

0
37

বাংলারজয় প্রতিবেদক:

নতুন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সব এন্ট্রি পয়েন্টে (প্রবেশপথ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। অথচ গতকাল যুগান্তরে এ সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বোঝা যায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের নিশ্চিন্তে থাকার সুযোগ নেই। বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোয় যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এ রোগে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত না হওয়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র থার্মাল স্ক্যানারটি নষ্ট থাকায় যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে হ্যান্ডহেল স্ক্যানার দিয়ে। সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও প্রায় একই অবস্থা।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে চেকপোস্টের থার্মাল স্ক্যানারটি সচল থাকলেও এর মনিটর কাজ করছে না। আখাউড়া স্থলবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে হ্যান্ডহেল স্ক্যানারে। বাংলাবান্ধা, হিলি, ভুরুঙ্গামারী ও রৌমারী স্থলবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে। বিষয়টি উদ্বেগের বৈকি! এ সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের।

বর্তমানে দেশে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান- রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে (আইইডিসিআর) করোনাভাইরাস নির্ণয়ের সুযোগ আছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে সংকটময় মুহূর্তে জটিলতা বাড়বে। কাজেই দেশে করোনাভাইরাস নির্ণয়ের সুযোগ আরও বাড়াতে হবে এবং তা জরুরি ভিত্তিতে।

এ বিষয়ে গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নেই। শুধু তাই নয়, করোনাভাইরাসের কোনো রোগী শনাক্ত হলে কীভাবে তাকে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়িয়ে হাসপাতালে নেয়া হবে, কীভাবে চিকিৎসা দেয়া হবে- এসব বিষয় দক্ষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

অর্থাৎ করোনাভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতিটা হতে হবে যথোপযুক্ত। ইতিপূর্বে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, নতুন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে তা আরও জোরদার করতে হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করতে হবে, যারা প্রতিটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এ ধরনের ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেহেতু সারা পৃথিবীতেই নতুন, সেহেতু এ রোগ মোকাবেলার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা উদাহরণ আমাদের সামনে নেই। তবে কী কী পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়, তা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়ই জানেন। তারা বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে রোগটির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিতে পারেন।

এ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম দেশব্যাপী চালানো উচিত বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে কাজে লাগানো যেতে পারে। মোটকথা, যেহেতু রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিয়েছে, সেহেতু এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। তবে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলে এ নিয়ে জনমনে উৎকণ্ঠার কোনো কারণ ঘটবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here