শ্রীপুরে ট্রাকস্ট্যান্ডে ফের চাঁদাবাজির অভিযোগ

0
578

এমদাদুল হক,শ্রীপুর(গাজীপুর):

গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবহনে কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর নতুন করে ট্রাকস্ট্যান্ডে ফের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবহন মালিক-চালকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পরিবহন ব্যবসায়ীদের মতে,সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারীরা ট্রাকস্টান্ড নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দেয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রনে থাকা স্থানীয় লেগুনা, সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ কিছু পরিবহণে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় ট্রাকস্ট্যান্ডেও। সেখানেও অন্যায়ভাবে চাঁদা আদায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি কতিপয় পরিবহণ নেতার বিরুদ্ধে ট্র্রাক স্ট্যান্ডে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ট্রাক পরিবহন ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে মাওনা চৌরাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজী ফিলিং ষ্টেশন সংলগ্ন মিজানুর রহমান খানের মালিকানাধীন মার্কেটে ট্রাক পরিবহন নেতারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এখানে মোট ব্যবসায়ীরা সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। শিল্পাঞ্চল খ্যাত শ্রীপুরের বিভিন্ন কারখানার উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের জন্য মালবাহী ট্রাক-কভার্ড ভ্যান সরবরাহ্ করে থাকে এখানকার পরিবহন মালিক-ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক-কভার্ডভ্যান এখান থেকে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভাড়ায় যায়। এড. রহমত আলী’র অনুসারীরা প্রতি ট্রাক থেকে পঙ্গু ও অসহায় শ্রমিকদের নামে গাড়ি প্রতি ১শ টাকা করে চাঁদা আদায় করতেন। সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারিরা এর নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দিলে দীর্ঘদিন চাঁদাবাজী বন্ধ থাকে। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রাক ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে শ্রীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দুলু মিয়া নিজেদের নির্বাচিত দাবী করে নতুন চাঁদার রশিদ বই তৈরী করে বিভিন্ন পরিবহন কার্যালয়ে সরবরাহ্ করে। প্রতিটি রশিদে ১০ টাকা লেখা থাকলেও তারা ১শ টাকা করে আদায়ের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

আলিফ ট্রান্সপোর্টের মালিক সাইদুল ইসলাম জানান, আগে আমাদের প্রতিটি গাড়ির ভাড়া বাবদ ১শ টাকা চাঁদা গুনতে হতো। তবে এবারের সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই চঁাঁদা উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার সোমবার থেকে আমাদের চাঁদার নতুন বই সরবরাহ করে প্রতি রশিদ বাবদ ১শ টাকা করে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

মাওনা চৌরাস্তা ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোশারফ সরকার বলেন,মাওনা চৌরাস্তা অত্যান্ত জনগুরুত্ব র্পূণ এলাকা, এখানে বিভিন্ন জেলার লোকজনের বসবাস। কিছু ভাসমান দোকানদার স্থানীয় নেতাদের সাথে আতাত করে দোকান বসিয়ে জানজট সৃষ্টি করছে। কিছু দিন আগে গাজীপুর পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় ফুটপাথ উচ্ছেদ করে যানযট মুক্ত হয়েছে। ঈদমুখী মানুষ নির্বিগ্নে শান্তিতে বাড়ি ফিরছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য চাঁদার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় আমরা কয়েকমাস শান্তিতে ছিলাম। এমনিতেই আমাদের ব্যবসায় মন্দা ভাব বিরাজ করছে। তার উপর নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। ফের আবার ট্রাক স্ট্যান্ডে পঙ্গু ও মৃত শ্রমিকদের কল্যাণের নামে রিসিট বই তৈরী করে একটি মহল চা্দাঁবাজি শুরু করছে। আমি আমার ব্যবসায়ীদের বলেছি কোন প্রকার চাঁদা না দিতে। আমরা এ ব্যপারে গাজীপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুল্লাহ দাবী তাদের সংগঠন এখন পর্যন্ত কোন ধরনের চাঁদা আদায় করছে না, তবে রশিদ বই বিভিন্ন পরিবহন ব্যবসায়ীদের অফিসে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করে আরো বলেন,শ্রমিকদের কল্যানে অর্থ ব্যয় করা হবে।

গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, আমার এলাকায় শুধু পরিবহণে নয়, কোন ক্ষেত্রেই অবৈধভাবে চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না, কেউ চাঁদাবাজি করলে ছাড় দেয়া হবে না।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here